গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রুল
শ্রমিক সংগঠনগুলো সরাসরি শ্রম আদালতে মামলা করতে পারে না। বিষয়টি শ্রমিক স্বার্থবিরোধী হওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিল গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ)। সম্প্রতি হাইকোর্ট ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুল নিশি জারি করেছেন। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টেদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন বিশ্বাস করে, অসৎ শ্রম আচরণের বিচার প্রার্থনার ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো পক্ষের ওপর শ্রমিকের নির্ভরতা দূর হলে দেশের সাধারণ শ্রমিকরা উপকৃত হবেন। অর্থাৎ শ্রমিক সংগঠনগুলো সরাসরি শ্রম আদালতে মামলা করতে পারলে শ্রমিক স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে মনে করে শ্রমিক সংগঠনটি।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অসৎ শ্রম আচরণ এবং ইউনিয়ন বৈরিতার ফৌজদারি মামলা দাখিলের মর্মে হাইকোর্টের রুল নিশি জারি করার বিষয়টি অবহিত করতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। সংবাদ সম্মেলেনে এ সব তথ্য জানানো হয়।
গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহ সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েছ এর সঞ্চালনায় সংবাদ ব্রিফিং পাঠ করেন জিপিইইউ’র সাধারন সম্পাদক মাতুজ আলী কাদেরী। পাঠকৃত সংবাদ ব্রীফিং এর উপর আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশনের সভাপতি এবং শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ রুহুল আমিন, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমিন, ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিল এর সাধারন সম্পাদক রাশেদুল আলম রাজু, ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়ন বাংলাদেশ এর এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী ও কো-অর্ডিনেটর এ কে এম মোস্তফা কামাল এবং জিপিইইউ’র সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসাইন চৌধুরী।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দগণ বলেন ,হাইকোর্টের এই আদেশ যুগান্তকারী এবং গ্রামীনফোন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আর কাজটা অন্য কোনো শ্রমিক সংগঠন করতে পারে নাই, জিপিইইউ তা করে দেখিয়েছে, তাই তাদের সাধুবাদ জানাই। বক্তারা আরও বলেন সংবিধান এবং আইএলও’র সাথে শ্রম আইনের সাংঘর্ষিকতা দূরীকরনে বিদ্যমান আইনে অনেক সংশোধনী আনা জরুরী, এক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার জন্য জিপিইইউকে ধন্যবাদ এবং শুভকামনা জানাই।
উল্লেখ্য শ্রম আইনের অনেক ধারা বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মানবাধিকারকে ক্ষুণ্ন করে বলে মনে করছে গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ)। এসব ধারার মধ্যে ২৬, ২৭(৩ক), ১৭৯ (২), ১৮০ (১)(খ), ১৮৭ দফার শেষাংশের ধারাগুলো অন্যতম বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। ২০০৬ সালে শ্রম আইন পাস হওয়ার শুরুতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য ২০১৩ এবং ২০১৮ সালে বড় আকারে সংশোধনী হওয়া সত্ত্বেও একটি গণতান্ত্রিক শ্রম আইন অধরাই রয়ে গেছে। শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যার বিচারে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
বাংলাদেশে শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬। বেশ কয়েকবার আইনটিতে সংশোধনী আনা হলেও এখনো এটি শ্রমবান্ধব হয়েছে বলা যায় না। শ্রম আইনের বিভিন্ন ধারা উপ-ধারায় প্রত্যক্ষভাবে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ধারা উপধারা সন্নিবেশিত রয়েছে। শ্রম আইনের পুরো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা আমাদের আজকের উদ্দেশ্য নয়। আইনে কিছু অধিকার দেওয়া থাকলেও এই আইনেই কিছু ধারা প্রয়োগ করে আবার তা খুণ্ন করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্য এ মাতুজ আলী কাদেরী বলেন ৩১৩ ধারায় বলা আছে মালিক বা মালিকপক্ষ একজন শ্রমিকের প্রতি অসৎ শ্রম-আচরণ করলে তাতে ক্ষুব্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে একজন শ্রমিক বা শ্রমজীবী নিজে তার প্রতিকার প্রার্থনা করে শ্রম আদালতে দরখাস্ত করতে পারবেন না। শ্রম আদালতে যাওয়ার আগে মহাপরিচালকের কাছে অনুমতির জন্য বা তার পক্ষে মামলা দায়ের করার জন্য দরখাস্ত করতে হবে। বলা দরকার মহাপরিচালক নিজে বা তার দফতরের অফিসারদের বিষয়ে আমরা কখনই আশাবাদী হতে পারি না যে, তারা সততার সাথে কাজটি করবেন।
মাতুজ আলী কাদের আরও বলেন এসব বিষয় বিবেচনা করে গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ২৯, ৩১, ৩৮ ও ৪০ অনুচ্ছেদ কার্যকরণের জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধিকার বলে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর রিট পিটিশন করে। গত ২১ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ সরকারের আইন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দুজন সচিব, মহাপরিচালক (শ্রম) ও অপর তিন জনের প্রতি রুল নিশি জারি করেন এবং চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন।
তিনি আরো বলেন, গ্রামীণফোন এপ্লয়িজ ইউনিয়ন বিশ্বাস করে, অসৎ শ্রম আচরণের বিচার প্রার্থনার ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো পক্ষের ওপর শ্রমিকের নির্ভরতা দূর হলে দেশের আপামর শ্রমিক এ থেকে উপকৃত হবে এবং দেশের সর্বস্তরের শ্রমিক সংগঠন তথা শ্রমিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে এ যাত্রাপথে আমরা পাশে পাব।